৬৪ দিনে বাংলাদেশ – গাজীপুর

শেয়ার করুন

ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সম্মিলনে  কালোত্তীর্ণ মহিমায় আর বর্ণিল দীপ্তিতে ভাস্বর অপার সম্ভাবনায় ভরপুর গাজীপুর জেলা  । এটি ঢাকার সন্নিকটে অবস্থিত। অনেকগুলি ভারী এবং মাঝারি শিল্প এলাকা নিয়ে এই শহর গড়ে উঠেছে। টঙ্গীর অবস্থান এই শহরের মধ্যে। এছাড়াও এখানে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি রয়েছে।ইতিহাস খ্যাত ভাওয়াল পরগণার গহীন বনাঞ্চল আর গৈরিক মৃত্তিকা কোষের টেকটিলায় দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক এ জনপদ ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ গাজীপুর জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এ জেলার উত্তরে ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা, দক্ষিণে ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার অবস্থান।

পুরাকীর্তির সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ

১। সাকাশ্বর বৌদ্ধস্তম্ভ- এটি কালিয়াকৈর অবস্থিত।এটি মৌর্য শাসন আমলে মহামতি সম্রাট অশোক কর্তৃক নির্মিত ৮৪ হাজার স্তম্ভের একটি। এটি প্রায় আড়াই হাজার বৎসের পূর্বে তৈরি মৌর্য আমলের সূচনা স্তম্ভ।

২। ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী- জমিদার পরিবারের সদস্যদের শবদাহ, সৌধ নির্মাণ ও নামফলক স্থান। জায়গাটি চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে জোড়পুকুর হতে প্রায় এক কি মি উত্তরে ভুরম্নলিয়া রাস্তার পাশে অবস্থিত।জিরো পয়েন্ট হতে গাজীপুর গামী বাসে শিববাড়ীতে নেমে রিক্সাযোগে আসা যায়।

৩। কপালেশ্বর- কাপাসিয়া উপজেলাধীন সিংহশ্রী মৌজায় অবস্থিত।প্রাচীন ভাওয়ালের সমৃদ্ধ জনপদ ও পাল বংশীয় শাসক শশি পালের রাজধানী বলে কপালেশ্বর বেত। কপালেশ্বর ঢিবির বর্তমান সীমা হলো ৪৫ ফুট x ৫৪ ফুট ঢিবির নিকটে সামান্য খনন করলেই প্রাচীন আমলের পাতলা ইট, ভাঙ্গা মাটির পাত্র, কলস, ভাত খাওয়ার পাত্র, জল পাত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়। এখানে ৫০০ বৎসর পূর্বে খননকৃত বিশাল একটি দীঘি রয়েছে।

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ এছাড়াও এখানে জন্মেছেন দেশ বরেন্য বিভিন্ন ব্যাক্তি বর্গ। তারা হলেন-

তাজউদ্দিন আহমেদ-  বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পার্শ্বে যার নাম উচ্চারিত হয় তিনি হলেন বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা- পদার্থ ও মহাকাশ বিজ্ঞানের বিস্ময়কর প্রতিভা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির একাধিক মৌলিক সূত্র উদ্ভাবনে ও কার্যকরভাবে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রয়েছে।

নিষ্কলুস ও সুস্থ রাজনীতির বাহক, দেশ উন্নয়নে নিবেদিত প্রান এবং মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের ভূমিকা পালনকারী মরহুম শামসুল হক, শহীদ আরজ উদ্দিন, গাজী গোলাম মোস্তফা মরহুম হাবিবুল্লাহ, শহীদ হুরমত আলী, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার, এড. মো: রহমত আলী, এড. আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রমুখের সেবায় ধন্য এ ভূমি।শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী ও শিক্ষা সাহিত্যিক অধ্যাপক ড. এখলান উদ্দিন, বিজ্ঞানী ও গবেষক অধ্যাপক ড. অজিত কুমার সাহা , বাগ্মী সুপন্ডিত মোঃ নুরুল ইসলাম ভাওয়ালরত্ন প্রমুখের অবদান অনস্বীকার্য সাহিত্য ও শিল্পের কল্পনাপ্রসুত বোধের বাস্তব রূপদানকারী নাট্যকার অভিনেতা ঢাকা যাদুঘরের সংগ্রাহক ও বিশ্বখ্যাত বলধা গার্ডেনের  নির্মাতা বলধা জমিদার নরেন্দ্র নারায়ন রায় চৌধুরী, রবীন্দ্র সমসাময়িক এদেশের অন্যতম শ্রেষ্ট কবি স্বভাব কবি গোবিন্দ চন্দ্র দাস, সুসাহিত্যিক আবু  জাফর শামসুদ্দিন, মরমী সংগীত পাঠক আঃ রউফ, পল্লীগীতি গায়িকা মীনা বরুয়া এ জেলারই সন্তান। বাংলাদেশের শিল্প উন্নয়নে এ জেলার কৃতি সন্তান কেয়া গ্রুপের কর্ণধার আঃ খালেক পাঠানের অবদান স্মরনীয়।

সংস্কৃতিঃ ভাওয়াল সংগীত, দোম অন্থনির পালাগান, গাজীর গীত, প্রাচীন পুঁথি সাহিত্য, লোকজ সংস্কৃতি, মেঘমাগা,  গাজীপুর জেলার মসলিন ইতিহাস, গাজীর গীত, ধান কাটার গীত।

বিখ্যাত খাবারঃ ধনীর চিড়া,কাঠাল, পেয়ারা, গরু ভূনা।

নদ-নদীঃ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র,শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বংশী, বালু, বানার, গারগারা ও চিলাই।

দর্শনীয় স্থানঃ

১। শ্রীফলতলীর জমিদার বাড়িঃ শ্রীফলতলী জমিদার বাড়ী কালিয়াকৈর উপজেলায় অবস্থিত ২ টি প্রাচীনতম জমিদার বাড়ীর মধ্যে একটি এবং বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি ।

২। সাবাহ গার্ডেন রির্সোটঃ বিশ্বের বিভিন্ন নামি-দামি মনীষীর অমিয় বাণী দিয়ে পুরো রিসোর্টটি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের একমাত্র রিসোর্ট এটি যেখানে রয়েছে একটি লাইব্রেরি।

৩। নক্ষত্রবাড়ীঃ গাজীপুরে অবস্থিত বেসরকারি রিসোর্টগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যমণ্ডিত ‘নক্ষত্রবাড়ী’। নক্ষত্রবাড়ী প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছেও অতি জনপ্রিয় নাম।

৪। ছুটিঃ ছুটি রিসোর্টে রয়েছে নৌভ্রমণের ব্যবস্থা, বিরল প্রজাতির সংরক্ষিত বৃক্ষের বনে রয়েছে টানানো তাঁবু। ছনের ঘর, রেগুলার কটেজ, বার্ড হাউস, মাছ ধরার ব্যবস্থা, হার্বাল গার্ডেন, বিষমুক্ত ফসল, দেশীয় ফল, সবজি, ফুলের বাগান, বিশাল দুটি খেলার মাঠ, আধুনিক রেস্টুরেন্ট, দুটি পিকনিক স্পট, গ্রামীণ পিঠা ঘর, বাচ্চাদের জন্য কিডস জোনসহ সারা দিন পাখির কলরব, সন্ধ্যায় শিয়ালের হাঁক, বিরল প্রজাতির বাঁদুড়, জোনাকি পোকার মিছিল ও আতশবাজি, ঝিঁঝিঁ পোকার হৈচৈ।

৫। অঙ্গনাঃ গাজীপুরের কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে। নগর জীবনে একাধারে চলতে চলতে ক্লান্তি এসে যায় মনে। আর এই ক্লান্তি দূর করতে রাজধানীর অদূরে কাপাসিয়ার সূর্যনারায়ণপুর গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি এই রিসোর্ট ‘অঙ্গনা’।

৬। সোহাগপল্লীঃ ১১ একর উঁচু-নিচু জমিতে সবুজে ঘেরা এই রিসোর্টের অন্যতম আকর্ষণ হলো জলাশয়ের ওপর নির্মিত অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত ঝুলন্ত সাঁকো আর এর পিলার ও বেলকনিতে খোঁদাই করা বিভিন্ন কারুকাজ- যা আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

৭। ড্রিম স্কয়ারঃ গাজীপুরের মাওনার অজহিরচালা গ্রামে ‘ড্রিম স্কয়ার’ নামে বিশালাকৃতির বেসরকারি রিসোর্ট রয়েছে। ১২০ বিঘা জমির ওপর নির্মিত বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে ড্রিম স্কয়ার রিসোর্ট।

৮। রাঙামাটিঃ গাজীপুরে দিন দিন রিসোর্টের সংখ্যা বাড়ছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার কারণেই গাজীপুরের রিসোর্টগুলোর দিকে মানুষ বেশি ঝুঁকছে। তেমনই একটি রিসোর্টের নাম রাঙামাটি।

৯। সী গালঃ এটি গাজীপুরের একটি রিসোর্টের নাম। ঢাকার খুব কাছেই এই রিসোর্টটি পর্যটকদের মন কেড়েছে। এখান সবুজের সমারোহ মনকে শান্ত করে। দেশি-বিদেশি নানা বৃক্ষের সমারোহ ‘সী গাল’ রিসোর্টে

১০। আনন্দঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পরিচিত রিসোর্ট হলো ‘আনন্দ’। আনন্দ রিসোর্টটি নামের সঙ্গে বেশ আবেগের মিল রেখেছে। আনন্দদানের সব উপকরণই এখানে জোগাড় করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুধু চোখে দেখে নয়, বরং বিভিন্ন খেলার রাইডে চড়ে আনন্দের দেখা মিলবে এখানে।

ইয়ুথ ভিলেজ/নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচনা করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of