সময়ের সাথে পথ চলা

শেয়ার করুন

বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল সময়। সোসাল মিডিয়া আর যানযটের এই যুগে সময় মত কাজ করা যেন একটা স্বপ্নের বিষয়। স্কুল হোক বা বিশ্ব বিদ্যালয় কিবাং অফিস ডেড লাইনের মধ্যে কাজ শেষ করা আর যুদ্ধু করা এক সমান। আর সময় মত কাজ শেষ করতে না পড়ে শিক্ষক বা বসের বকার ভয়ে আত্ম গোপন হয়ে যাওয়া বা চিন্তায় হাবু ডুবু খাওয়া। সময় মত না করার পিছনে পারিপার্শ্বিকতা যতটা না বেশী দায় তার চেয়েও বেশী দায় নিজের ইচ্ছা শক্তি ও অভ্যাস। অফিসে তো আসলাম কাজ তো কম আগে একটু ফেইস বুকিং করে নিই বা কালকে তো ক্লাস নাই আর কি আসাইনমেন্টা না হয় কালকে দিব। সময় তো আছে পরীক্ষার আগে সব নোট করে নিব। কিন্তু বাস্তবতায় সময় কার জন্য বসে থাকে না সে নিজের গতিতে চলতে থাকে তাই সময়ের সাথে চলার কিছু সহজ পদ্ধতি শেয়ার করিঃ

০১। সময়কে বিভাজনঃ

শুক্রবার আর শনি বার প্রতিদিনের সময়কে এক ভাবে বিভাজিত করার চেষ্টা করা। যেমন ধরে নিই ২৪ ঘন্টার মধ্যে আপনি নূন্যতম ৬ ঘন্টা ঘুমাবেন এইটা একটানা ৬ ঘন্টাও হতে পারে বা রাতে ৫ ঘন্টা ও দুপুরে বা বিকালে ১ ঘন্টা বা ৩০ মিনিট। এইটা অনেকের সাথে নাও মিলতে পারে কিন্তু মনে রাখতে  হবে নূন্যতম ৪ হতে ৫ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য বেশী রাত জাগা যাবে না মধ্য রাত অর্থাৎ ২ টা ৩০ মিনিটের পর মানুষের নিউরন আস্তে আস্তে কম কাজ করতে থাকে ফলে আপনি যদি না ঘুমিয়ে কাজ করতে থাকেন লাভ হবে না। এবার আসুন বাকি সময় ধরে নিলাম আপনি সারাদিনের খাওয়া দাওয়া, প্রাথনা, বিনোদন সহ ৩ ঘন্টা ব্যয় করছেন। আমরা অনেকে যানযটের দোহাই দেই আপনি যে সময় যানযটে বসে থাকবেন আপনি তখন সোসাল মিডিয়া বা আপনার পছন্দের কাজ করতে পারেন। অনেকে চিন্তা করতে পারেন বাসে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাই কি ভাবে বই পরবো বা কি বা বিনোদন করব। বর্তমানে অডিও বুক পাওয়া যায় বা আপনি গান শুনতে পারেন তার ফলে আপনার যে ক্লান্তি ভাব হবে তা দূর হয়ে যাবে। যারা চাকরী করছেন তারা বাকি সময় হতে চাকরির সময় ব্যয় করবেন ধরে নিলাম আপনার অফিস টাইম ৮ ঘন্টা পরিবারের জন্য ২-৩ ঘন্টা আর নিজের বিকাশের জন্য ৩ ঘন্টা ব্যয় করতে পারেন। যারা শিক্ষার্থী তারা তাদের প্রয়োজন মত নিজের সময়কে বিভাজন করতে হবে।

০২। ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী ম্যানটেইন করাঃ

জীবনে সাফল্য আনতে হলে ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী মেন্টেইন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রিতিদিন আপনার কয়টাই মিটিং কি কি কাজ, কার সাথে কাজ, নিজের প্রিয়জনের কোন স্পেসাল দিন কিনা আপনি যদি  ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী মেন্টেইন করেন আপনার কখন এই গুলো ভুল হবে না। আর চেক লিস্ট থাকলে কাজ করার একটা স্পৃহা যাগে। কারণ যখন আপনি চেক লিস্ট ধরে ধরে কাজ শেষ করবেন তখন আপনার মন প্রফুল্ল থাকবে এবং কাজ করে মজা পাবেন।

০৩। চেক লিস্ট ধরে কাজ করাঃ

শুধু ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী তে কাজ লিখলে হবে না তা ধরে ধরে কাজ করতে হবে। ঘুমানোর আগে ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরীতে কাজ লিখলাম কিন্তু সকালে অফিসে গিয়ে আগে ইচ্ছা করল একটু গান শুনি বা স্যোসাল মিডিয়া চালাই। তা হলে দেখবেন মনের অজান্তেই কখন সময় চলে গেছে টের ও পাবনেন না। বরং লিস্টের কাজ করে যদি গান শুনেন বা স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করেন দেখবেন তখন কত আনন্দ সহকারে করতে পারেন।

০৪। দিনের কাজ দিনে শেষ করাঃ

চেস্টা করবেন দিনের কাজ দিনে শেষ করা। আমরা অনেকেই আজ আর বেশী কাজ না করি কালকে করবো নে এই বলে কাজকে ফাঁকি দেই । কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় পরের দিন নতুন কাজ এসে পড়েছে বা নতুন কোন সমস্যা পড়ে গেছে তার ফলে তার আগের দিনের কাজ তার জন্য বোঝা হয়ে গেছে। তাই দিনের কাজ দিনেই করা ভালো। পরের দিন কাজ না থাকলে নিজের জন্য ব্যয় করবেন।

০৫। কাজের গুরুত্ব বোঝাঃ

আমরা প্রতিদিনের কাজের চেক লিস্ট করার আগে আমাদের কাজের গুরুত্ব বিবেচনা করে নিতে হবে কোন কাজ টা আমার বেশী জরুরী আর কোন কাজটা কম তার উপর ভিত্তি করে কাজ করতে হবে। কারণ অনেক সময় দেখা যায় আমরা যে ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী চেক লিস্ট রেডি করে এসেছি তার মধ্য একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ এসে পড়েছে তার ফলে ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী সব কাজ শেষ করা সম্ভবপর হবে না। তাই কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ গুলো পরের দিনের চেক লিস্টের প্রথমে লিখে ফেলতে হবে।

০৬। দিন শেষে যাচাই করাঃ

সারা দিন কী কী করা হয়েছে তা দিন শেষে যাচাই করে নিতে হবে কারণ কাজের ফাকে বা মনের ভুলে কোন কাজ বাদ রয়ে গেল না তো। দিন শেষে যাচাই করা নিজের জন্য উত্তম।

মানুষের জীবনে ব্যাস্ততা সব সময় এক নয়। জীবনের এক পর্যায়ে এমন আসবে যখন ২৪ ঘন্টাও কম মনে হবে। নিয়ম মত যদি ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী মেন্টেইন লিস্ট ধরে কাজ করা যায় তাহলে লিস্ট যতই বড় হোক না কেন সময় মত কাজ শেষ হয়ে যাবে। ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী মেন্টেইন করলে আপনার জীবন কে সুন্দর করে তুলবে কারণ অনেকে কাজের মাঝে প্রিয়জনকে ভুলে যায়। ক্যালেন্ডার বা ডাইয়েরী মেন্টেইন করলে আপনযন অন প্রিয় জনের জন্য আপনা আপনি সময় বের হয়ে যাবে। সকল ব্যাস্ততার মাঝে নিজের মনকে প্রফুল্ল রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় সময়ের সাথে পথ চলা।

ইয়ুথ ভিলেজ/

আলোচনা করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of