মানিক নাকি মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়???

শেয়ার করুন

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (মে ১৯, ১৯০৮ – ডিসেম্বর ৩, ১৯৫৬) ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক। তার প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্ম নেবার পর কাগজে কলমে পরিবার প্রদত্ত ‘প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামেই বেড়ে উঠতে থাকেন বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পিতার কর্মসূত্রে মানিক তাঁর দুরন্ত শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও টাঙ্গাইলসহ বিহার, ওড়িষ্যার বেশ কয়েকটি স্থানে। লেখক হবার পরিকল্পনা করেছিলেন আগে থেকেই। লেখার উপকরণ সংগ্রহ করবার জন্য ঘুরে বেড়িয়েছেন প্রকৃতির মাঝে, জনপদে। নদীর বুকে রাত কাটিয়েছেন মাঝি-মাল্লাদের সাথে, সারারাত জেগে শুনেছেন ঘোড়ার গাড়ির গাড়োয়ানের জীবনের গল্প। ভদ্র সমাজের সঙ্গ ছেড়ে দিন কাটিয়েছেন নোংরা দরিদ্র ছেলেদের সাথে খেলে। সেই সাথে পড়েছেন দেশ-বিদেশের বিচিত্র বিষয়ের প্রচুর বই।

অতঃপর মাত্র ২০ বছর বয়সে বন্ধুদের সাথে বাজি ধরে সে সময়ের অত্যন্ত বিখ্যাত বিচিত্রা পত্রিকায় পাঠিয়ে দেন তাঁর প্রথম লেখা ‘অতসী মামী’ গল্পটি। লেখা পাঠানোর সময় নিজের নাম লিখলেন ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’। বিংশ শতকের প্রথম দিকে চলমান রবীন্দ্র-শরৎ ধারা থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ‘অতসী মামী’ গল্পটি যে কেবল প্রকাশিত হল, তাই নয়। সম্পাদক সশরীরে এসে আরো লেখা দেয়ার জন্য অনুরোধও করে গেলেন! সেই থেকে বাংলা সাহিত্য পেল সাহিত্যে ভিন্ন ধারা সৃষ্টিকারী, সমাজের শ্রমজীবী দরিদ্র শ্রেণির জীবনসংগ্রামের কথা বলা সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

মাত্র বিশ থেকে ঊনত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তিনি জননী, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা, অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, প্রাগৈতিহাসিক – এর মত গুরুত্বপূর্ণ লেখাগুলো লিখে ফেলেন। আর ৪৮ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে প্রায় ৪০টি উপন্যাস ও ৩০০টি ছোট গল্প লিখে বাংলা সাহিত্যে অমর হন। তাঁর সাহিত্যকর্ম বিদেশি অনেক ভাষাতেই অনূদিত হয়েছে। নিজেকে তিনি বলতেন ‘কলম পেষা মজুর’। কারণ সাহিত্য সাধনাকেই তিনি অন্নসংস্থানের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক মতভেদের কারণে শেষ দিকে অনেক পত্রিকাই তাঁর লেখা প্রকাশ করতে চাইত না। ফলে দুঃসহ দারিদ্র্যে জর্জরিত ছিল তাঁর শেষ জীবন।

উপন্যাসঃ

  • জননী (১৯৩৫)
  • দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)
  • পদ্মানদীর মাঝি(১৯৩৬)
  • পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬)
  • জীবনের জটিলতা (১৯৩৬)
  • অমৃতস্য পুত্রাঃ (১৯৩৮)
  • শহরতলি (প্রথম খণ্ড) (১৯৪০)
  • শহরতলি (দ্বিতীয় খণ্ড) (১৯৪১)
  • অহিংসা (১৯৪১)
  • ধরাবাঁধা জীবন (১৯৪১)
  • চতুষ্কোণ (১৯৪২)
  • প্রতিবিম্ব (১৯৪৩)
  • দর্পণ (১৯৪৫)
  • চিন্তামণি (১৯৪৬)
  • শহরবাসের ইতিকথা (১৯৪৬)
  • চিহ্ন (১৯৪৭)
  • আদায়ের ইতিহাস (১৯৪৭)
  • জীয়ন্ত (১৯৫০)
  • পেশা (১৯৫১)
  • স্বাধীনতার স্বাদ (১৯৫১)
  • সোনার চেয়ে দামী (প্রথম খণ্ড) (১৯৫১)
  • সোনার চেয়ে দামী (দ্বিতীয় খণ্ড) (১৯৫২)
  • ইতিকথার পরের কথা (১৯৫২)
  • পাশাপাশি (১৯৫২)
  • সার্বজনীন (১৯৫২)
  • নাগপাশ (১৯৫৩)
  • ফেরিওয়ালা (১৯৫৩)
  • আরোগ্য (১৯৫৩)
  • চালচলন (১৯৫৩)
  • তেইশ বছর আগে পরে (১৯৫৩)
  • হরফ (১৯৫৪)
  • শুভাশুভ (১৯৫৪)
  • পরাধীন প্রেম (১৯৫৫)
  • হলুদ নদী সবুজ বন (১৯৫৬)
  • মাশুল (১৯৫৬)

ছোটগল্পঃ

  • অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫)
  • প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭)
  • মিহি ও মোটা কাহিনী (১৯৩৮)
  • সরীসৃপ (১৯৩৯)
  • বৌ (১৯৪০)
  • সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩)
  • ভেজাল (১৯৪৪)
  • হলুদপোড়া (১৯৪৫)
  • “টিকটিকি “
  • “হারানের নাতজামাই”
  • আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬)
  • পরিস্থিতি (১৯৪৬)
  • খতিয়ান (১৯৪৭)
  • মাটির মাশুল (১৯৪৮)
  • ছোট বড় (১৯৪৮)
  • ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৪৯)
  • ফেরিওলা (১৯৫৩)
  • লাজুকলতা (১৯৫৪)
  • আত্নহত্যার অধিকার

নাটকঃ

  • ভিটেমাটি (১৯৪৬)

ইয়ুথ ভিলেজ/নিজস্ব প্রতিবেদক/সিফাত নার্গিস

আলোচনা করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of