বাংলা সাহিত্যে ড. দীনেশচন্দ্র সেন

শেয়ার করুন

ড. দীনেশচন্দ্র সেন একজন প্রখ্যাত লোকসাহিত্য বিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গবেষক ও লেখক।তিনি ১৮৬৬ সালের ৩রা নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ঢাকা কলেজ থেকে এফ. এ. ও বি. এ. পাশ করার পর তিনি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিশোর বয়স থেকেই বাংলা সাহিত্যের প্রতি দীনেশচন্দ্র সেনের ছিল গভীর অনুরাগ। ১৮৯০ সালে কুমিল্লার ভিক্টরিয়া কলেজে শিক্ষকতা করার সময় তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরতে থাকেন। সে সকল গ্রামের কোণে লুকিয়ে থাকা আর লোকের মুখে মুখে ঘুরে ফেরা পুঁথি-পালাসমূহ সংগ্রহ করতে থাকেন তিনি। এ সংগ্রহের উপর ভিত্তি করে প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনি তুলে ধরেন তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ গ্রন্থে, ১৮৯৬ সালে। ১৮৯৬ সালেই তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি লোকসাহিত্যের বিখ্যাত সংগ্রাহক চন্দ্রকুমার দের সহযোগিতায় সংগ্রহ করেন পালা ও লোকগান। লোকসাহিত্য সংগ্রহ করার কাজে তাঁকে পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনও সহযোগিতা করেন।

সংগৃহীত পালা ও লোকগানগুলো তিনি সম্পাদনা করেন ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ ও ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে দুইটি গ্রন্থে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুখ্যাতি লাভ করে। ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ বিভাগ চালু হলে তিনি এর বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ড. দীনেশচন্দ্র সেন বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষাতেই বাংলা সাহিত্য ও এর ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ রচনা ও সম্পাদনা করে তা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেন। তন্মধ্যে ‘The Folk Literature of Bengal’, ‘The Bengali Ramayana’, ‘Glimpses of Bengal Life’, ‘History of Bengali Literature’, ’বৃহৎবঙ্গ’, ‘প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান’, ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ (খগেন্দ্র মিত্রসহ) প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

গ্রাম বাংলার চাষা, জেলে, মুচি, কামার, কুমার, তাঁতিসহ খেটে খাওয়া মানুষের জীবনকাহিনী উঠে এসেছে তাঁর রচিত গল্প, উপন্যাস ও কবিতায়।

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৯৩৯ সালের ২০শে নভেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শত বাধা বিপত্তি, বিদ্রূপ, প্রিয়জনকে হারানোর ব্যথা সহ্য করে তিনি তাঁর সাধনা চালিয়ে গিয়েছেন একনিষ্ঠভাবে। বাংলা লোকসাহিত্য ও এর ইতিহাস সংগ্রহের মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বরূপ উদ্‌ঘাটনে ড. দীনেশচন্দ্র সেন যে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

ইয়ুথ ভিলেজ/নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচনা করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of