একজন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

শেয়ার করুন

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সুপণ্ডিত, ভাষাবিদ, ভাষা সংস্কারক, সমাজ সংস্কারক, শিক্ষা সংস্কারক, লোকহিতৈষী প্রভৃতি অসংখ্য পরিচয়ে বিখ্যাত।

কীর্তিমান এই মানুষটির অল্প কয়েকটি কীর্তি আমরা সংক্ষেপে জেনে নিই:

১। আগে বাংলায় সংস্কৃত ভাষার অনুকরণে ১৬ টি স্বরবর্ণ ও ৩৪ টি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল। ঈশ্বরচন্দ্র স্বরবর্ণ হতে ৠ এবং ৡ বর্ণদুটি বাদ দিয়েছেন, অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণের তালিকা থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে এনে বসিয়েছেন, ড় ঢ় য় এই তিনটি নতুন বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণের তালিকায় যুক্ত করেছেন। এভাবে বাংলা ভাষা ও বর্ণমালা সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বিদ্যাসাগর।

২। ঈশ্বরচন্দ্রকে আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি গদ্যের ভাষাকে একটি সুললিত কাঠামোবদ্ধ রূপ দিতে সক্ষম হন। এছাড়া গদ্যে সুষ্ঠুভাবে যতিচিহ্নের ব্যবহার তিনি প্রথম শুরু করেন।

৩। শিক্ষা সংস্কারে বিদ্যাসাগরের অবদান অসামান্য। তিনি সংস্কৃত কলেজকে সকল বর্ণের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেন। ধর্মীয় তিথির পরিবর্তে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি চালু করেন। গ্রামে গ্রামে স্কুল স্থাপনের করে তিনি শহরের বাইরেও শিক্ষা বিস্তারে মনোযোগী হন। দরিদ্রদের জন্য স্থাপন করেন অবৈতনিক স্কুল। এছাড়া মেয়েদের জন্য বালিকা বিদ্যালয় স্থাপনের কৃতিত্বও বিদ্যাসাগরের।

৪। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বন্ধ করে হিন্দু মেয়েদের জীবন রক্ষা করেন, তবে বিধবা হিসেবে বেঁচে থাকা ছিল মৃত্যুর চেয়েও কষ্টকর। সমাজ বিধবাদেরকে সবরকম শুভকাজ ও অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত রাখত। বিদ্যাসাগর বিধবাদের এই দুর্দশা থেকে মুক্তিপ্রদানের জন্য একাধিক ধর্মশাস্ত্রের ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করেন যে বিধবাবিবাহ ধর্মসম্মত এবং তৎকালে বিধবাবিবাহের বিরোধিতাকারী কেউই ঈশ্বরচন্দ্রের যুক্তিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলেন না। ঈশ্বরচন্দ্র কেবল যুক্তি দেখিয়ে ক্ষান্ত হননি, তিনি বিধবাবিবাহ আইন পাস করিয়েছেন এবং নিজে উদ্যোগী হয়ে কয়েকটি বিধবাবিবাহ সম্পন্ন করেছেন। এ কাজের জন্য তিনি তৎকালীন সমাজের অনেকের কাছেই বিরাগভাজন হন।

৫। বাংলায় বিদেশীদের জীবনী ও বিশ্বসাহিত্যের অনুবাদ মূলত ঈশ্বরচন্দ্রের হাতে শুরু হয়। কোপার্নিকাস, গ্যালিলিও, নিউটন প্রভৃতি বিজ্ঞানীর জীবনী, ইউরোপ-আমেরিকা-মধ্যপ্রাচ্য প্রভৃতি অঞ্চলের নীতিমূলক গল্প অনুবাদ প্রভৃতির মাধ্যমে ঈশ্বরচন্দ্র বাঙালিদেরকে বিশ্ব সম্পর্কে জানাতে সচেষ্ট হয়েছেন।

৬। দান ও সমাজসেবা ছিল ঈশ্বরচন্দ্রের দুটি মহৎ গুণ। অসংখ্য দরিদ্র ছাত্রের পড়ালেখার খরচ বহন করতেন তিনি। দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অন্নসত্র চালু করেন। এসব কারণে ঈশ্বরচন্দ্র কেবল বিদ্যাসাগর নন, দয়ার সাগর এবং করুণাসাগর নামেও পরিচিত হন।

তাঁর মৃত্যু হয় ১৮৯১ সালের ২৯শে জুলাই।

ইয়ুথ ভিলেজ/নিজস্ব প্রতিবেদক/সিফাত নার্গিস

আলোচনা করুন

avatar
  Subscribe  
Notify of